অনেকদিন পর আবারো ফ্রীলান্সিং নিয়ে লিখতে
বসলাম। আমি প্রায় ৩-৪ বছর ধরে ফ্রীলান্সিং এর সাথে জড়িত আছি। সেই হিসেবে
অনেকের থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে তবে বিশেষ করে নতুন করে ফ্রীলান্সিং শুরু করা
নিয়ে প্রায়শই ফেসবুকে এবং ম্যানেঞ্জারে প্রশ্নের সম্মূখীন
হই। অনেকেই হয়তো বলে বুঝাতে পারি না বা তারা কি করবে তাও বুঝে উঠতে পারে
না। কারন একটাই তারা এই লাইনে একদমই নতুন। তাই তাদের থেকে ঘুরে ফিরে পাওয়া
কিছু কমন প্রশ্নের সহজ সমাধান দিতেই আজকের এই পোস্টির অবতারনা। চলুন শুরু
করি…
প্রশ্ন-১: অনলাইনে কোথায় থেকে আয় করে এবং কিভাবে?
উত্তরঃ দেখুন অনলাইন এর
আয় করার জগতটি অনেক বিশাল আপনি যেকোন খানে থেকেই আয় করতে পারেন। তবে হ্যাঁ!
আয়ের ক্ষেত্র যতটা বড় তেমনি ভুয়া কাজদাতা সাইট বা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও
কিন্তু অনেক কম নয়। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যেসকল সাইট
ইন্টারন্যাশনালী স্টাটাস প্রাপ্ত এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিনিয়তই কাজ করছে,
আয় করছে সেগুলো থেকে আয় করতে যাওয়াটাই উত্তম। যেমনঃ Freelancer.com,
Odesk.com, Vworker.com, Scriptlance.com, 99design.com, Rentacoder.com আর
ছোট ছোট কাজের জন্যও রয়েছে Microworkers.com. আপনার যোগত্যা অনুযায়ী যেকোন
একটি বা একাধিক সাইট থেকে কাজ নিতে পারেন।
প্রশ্ন-২: কোন সাইট গুলো বিশ্বাসযোগ্য?
উত্তরঃ নিজ চোখে কাজ
পাওয়া এবং অর্থ পাওয়া না দেখলে অনেকেই এই প্রশ্ন করে। তবে, আপনার আশেপাশে
যদি এমন কেউ থাকে যারা কাজ করছেন তাদের থেকে জানতে পারবেন কোনটি কেমন সাইট।
প্রশ্ন-৩: কোথায় থেকে শুরু করবো?
উত্তরঃ এটি একটি কঠিন
প্রশ্ন! আসলে শুরু নির্ভর করে সম্পূর্ণ নিজের উপরে। আপনি যদি কাজ জেনে
থাকেন তবে এখনই শুরু করুন। আর যদি কিছু না জেনে থাকেন তবে কাজ শিখতে নেমে
পড়ুন।
প্রশ্ন-৪: কি কাজ শিখবো এবং কিভাবে, কোথায় থেকে?
উত্তরঃ ইন্টারনেটে কাজ
করে টাকা কামানো অনেক উপায় আছে। আপনি চাইলেই সেগুলো থেকে কামাতে পারবেন
কিছু জ্ঞান নিয়েই্ তবে যদি ভবিষ্যতেও সেই কাজ নিয়ে ক্যারিয়ার করতে ইচ্ছুক
হন তবে ব্যতিক্রম কাজ শিখতে এবং তা করতে অভ্যাস করতে হবে। না হলে বর্তমানে
কাজ করে টাকা কামাতে পারবেন কিন্তু কিছু দিন পর আপনার বর্তমানে কাজগুলো
ট্রেন্ড থাকবে না এটা নিশ্চিত। এখন ভবিষ্যতে যে কাজগুলোর ট্রেন্ড থাকবে
এখনকার চাইতেও বেশি সেগুলো হলঃ ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, এনিমেশন.
ভিডিও+অভিও এথোরিং, থ্রীডি ডিজাইন, মোবাইল এপস ডিজাইন, ডাটাবেজ ডিজাইন,
একাউনিটং সফটওয়্যার ডিজাইন, ক্রিয়েটিভ রাইটং সহ আরো অনেক কিছুই যেগুলোর
চাহিদা আমদের দেশে হয়তো এখন নেই। তবে, বহিঃবিশ্বের সাথে কাজ করতে হলে
আপনাকে জানতেই হবে। এবং ভবিষ্যতেও আপনি দেশেও এসব কাজের বাজার পেতে পারেন।
বর্তমানে আমাদের দেশে প্রোফেশনালী কাজ
শিখায় এমন কোন প্রতিষ্ঠান নাই। তবে, আপনি যতটুকু দরকার তা আশেপাশে
প্রতিষ্ঠান থেকে শিখে নিতে পারেন। যদি এমনটি হয় যে আপনি যা শিখতে চাইছেন তা
আপনারা শহর কেউই শিখায় না, তবে আপনি বাংলা ব্লগগুলো দেখতে পারেন। যেখানে
অকাতরে অনেকেই তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে শিখাচ্ছেন। সাথে নির্দিষ্ট বিষয়ের বই
বাজার থেকে কিনে নিয়ে রপ্ত করুন। তারপরও যদি মনে করেন আপনার জন্য
এতটুকুতেই শেষে না। তাহলে নেটের সার্চ করুন, নেটে এমন কোন টপিক নেই যেগুলো
সার্চ দিলে খুজেঁ পাবেন না।
একটি কথা, আজকের যারা সফল বিভিন্ন সেক্টরে
তাদের বেশির ভাগেরই ঐ বিষয়ের উপরে প্রতিষ্ঠানিক কোন জ্ঞান নেই। প্রায় সবাই
নিজের প্রয়োজনের তাড়নায় যেকোনভাবেই হোক শিখে নিচ্ছেন। তাই আপনাকেও আপনার
তাড়নাকে বুঝেশুনে কাজ করতে হবে। আর হতাশ হবেন না কোন ক্রমেই। আপনাকে হেল্প
করত সবচেয়ে বড় বন্ধু সার্চ ইঞ্জিন তো আজেই।
প্রশ্-৫: কোন কাজ করলে বেশি আয় করা যায়?
উত্তরঃ আপনি আপনার জানা
বিষয় দিয়ে সর্বোচ্চ আয় করতে পারেন। তবে, ডিজাইন রিলেটেড কাজ গুলোর ডিমান্ড
অনেক বেশি এবং সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়বে। এখানে লক্ষণীয় আপনি গ্রাফিক্স
বা সফটওয়্যার ডিজাইনার হতে পারেন, তবে আপনার যদি ক্রিয়েটিভ কাজ করার সেন্স
না থাকে তবে, তেমন আয় করতে পারবেন না। ক্রিয়েটিভ সেন্স সকল ক্রিয়েটিভ কাজের
জন্য অপরিহার্য। এবং যে বিষয়েই কাজ করুন না কেন, আপনি যত অভিজ্ঞ হবেন এবং
ক্রিয়েটিভ সেন্স এর অধিকরী ও দ্রুত কাজ শেষ করার ক্ষমতা অর্জন করতে পারবেন
আপনার আয় ততই বাড়বে যেকোন কাজেই।
প্রশ্ন-৬: কাজ শিখার জন্য কত দিন সময় লাগবে?
উত্তরঃ কোন কাজই চাইলেই
শিখে ফেলা যায় না। সেই কাজটির জন্য আপনার ইচ্ছা কতটুকু বা আপনি শিখতে
পারবেন কিনা এসব বিষয়কে বিবেচনা করতে হবে। দেখুন…
আপনি যদি লিখালিখি মানে ব্লগিং থেকে আর্ন
করতে ইচ্ছুক হন তবে, প্রাথমিক অবস্থায় আপনি কোন বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখবেন তা
আপনাকেই নির্বাচন করতে হবে। এবং সেই বিষয়টি কতদিন বা কতগুলো লিখতে পারবেন
তাও আপনাকেই বিবেচনা করতে হবে। ব্লগিং এ এই বিষয়টি খুবই গুরুপ্তপূর্ণ। কি
নিয়ে লিখবেন এবং কতদিন লিখে যেতে পারবেন তা নির্ধারন করতে পারলেই আপনি লিখা
শুরু করতে পারেন। সাথে পালিশার প্রোগ্রামগুলো(যাদের মাধ্যমে আয় করবেন)
কিভাবে কাজ করে, কিভাবে সেগুলোর একাউন্ট পেতে পারেন সব আস্তে আস্তে শিখবেন।
তবে মূল বিষয় হলো আগে লিখার টপিক ঠিক কার এবং একাগ্রতার সাথে লিখে যাবার
মানুষিকতা থাকতে হবে। তাহলেই সফল ব্লগার হতে বেশি সময় লাগবে না।
যদি আগের উত্তরের মত ডিজাইন রিলেডটড কাজ
করতে ইচ্ছুক হয়ে থাকেন তাহলে নির্দিষ্ঠ বিষয়গুলো ভালভাবে রপ্ত করুন। একটি
নির্দিষ্ঠ স্টেজ পর্যন্ত যা যাওয়া পর্যন্ত কাজে হাত দিবেন না। আবার পুরো
শিখেই কাজ করবেন এমন চিন্তা নিয়ে থাকলে তা ঝেড়ে ফেলুন। কারন আপনি যতদিনে
পূর্ণ শিক্ষা নিবেন(যদিও কোন কিছুই সম্পূর্ণ শিখা যায় না) ততদিনে আপনার সেই
জায়গা অন্য একজজন ছিনায় নিবে প্রকৃতির নিয়মেই। তাই শিখার একটি নির্দিষ্ঠ
স্টেজ এ চলে গেলেই আপনাকে কাজে নামতে হবে। তারপর আস্তে আস্তে শিখুন।
প্রশ্ন-৭: ব্লগিং করলে কি নিজের ওয়েবসাইট কি দরকার পড়বে? পড়লেও সেটা কি ফ্রি নিবো নাকি পেইড নিবো? পেইড নিলে কিভাবে, কাদের থেকে ওয়েব সাইট আর হোষ্টিং নিবো?
উত্তরঃ আয় করার জন্য
ব্লগিং করলে নিজের ব্লগ করতেই হবে এমনটা বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি অন্যের
ব্লগে লিখেও আয় করতে পারবেন। তবে, অন্যের ব্লগে লিখতে হলে আপনার লিখায়
কোয়ালিটি থাকতে হবে। সাজিয়ে এবং নির্ভূল লিখার অভ্যাস থাকতে হবে। সর্বপরি,
যার ব্লগে লিখবেন তাকেও আপনার প্রতি ইন্টারেস্ট তৈরী করাতে হবে।
আর যদি ব্যক্তিগতভাবে ব্লগ করে আয় করতে
ইচ্ছুক হন তবে অবশ্যই নিজের ব্লগ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে নতুন ব্লগারদের
আদর্শ হবে গুগলের ব্লগার.কম কে বেঁছে নেয়া। এতে আপনি সবকিছুই নিজের মত করে
মোডিফাই করে আয় করার উপযোগী নিতে পারবেন। যা ওয়ার্ডপ্রেস.কম এ করতে পারবেন
না। আপনি ইচ্ছা করলে ব্লগার.কম এর প্রিমিয়াম ডোমেইন কিনে নিয়ে সংযুক্ত করে
নিতে পারবেন। এটা গেল ফ্রী হোস্টিং এর ক্ষেত্রে।
পেইড ব্লগিং(ওয়ার্ডপ্রেস.ওর্গ) এর
ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই টাকা দিয়ে ডোমেইন, হোস্টিং কিনতে হবে। দেশের বাহিরে
অনেক উন্নতমানের ডোমেইন এবং হোস্টিং কোম্পানী রয়েছে তবে আপনি পেপাল এবং
ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড ছাড়া তাদের সাথে লেনদেন করতে পারবেন না। তাই শুরুর
দিকে আপনি দেশের থেকে এসব কিনতে পারেন।
আপনি চাইলে আমার থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং এর প্যাকেজ দেখতে এবং কিনতে পারবেন। ডোমেইন এবং হোস্টিং প্যাকেজ গুলো দেখুন এখানে।
প্রশ্ন-৮: আমি একজন ওয়েব এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে চাই, তাই কোন দিকে আগে আগাবো বা কোনটা সিলেক্ট করবো তা কিভাবে বুঝবো?
উত্তরঃ দেখুন একসাথে
একাধিক বিষয় শিখতে যাওয়া মানে ভুল। প্রতিটি বিষয় স্বতন্ত্রভাবে শিখাটাই
ভাল। তবে, আপনি যদি ওয়েব ডিজাইনার হতে চান তবে আপনারকে একাধারে গ্রাফিক্স
ডিজাইনারও হতে হবে। আর স্বতন্ত্রভাবে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হলেও হবে।
গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে হলেঃ স্থানীয় কোন
প্রতিষ্ঠান থেকে শিখার পাশাপাশি অনলাইনেও চোঁখ বুলাতে হবে। যেসব সাইটগুলো
শিখার জন্য পপুলার সেগুলো হলোঃ ১. www.photoshop-tutorials-plus.com, ২.
www.photoshoptutorials.ws,
৩. www.photoshopessentials.com, ৪. http://www.tutorialized.com ৫. http://graphicssoft.about.com সহ নেটে সার্চ করলে আরো অনেক সাইট পাবেন য়েখানে ফ্রী শিখতে পারবেন।
৩. www.photoshopessentials.com, ৪. http://www.tutorialized.com ৫. http://graphicssoft.about.com সহ নেটে সার্চ করলে আরো অনেক সাইট পাবেন য়েখানে ফ্রী শিখতে পারবেন।
ওয়েব ডিজাইনার হতে হলেঃ স্থানীয় কোন
প্রতিষ্ঠান থেকে শিখার পাশাপাশি অনলাইনেও চোঁখ বুলাতে হবে। যেসব সাইটগুলো
শিখার জন্য পপুলার সেগুলো হলোঃ ১. www.w3schools.com, ২. www.htmldog.com,
৩. www.php.net, ৪. http://www.tizag.com, ৫. http://www.quackit.com, ৬.
http://www.freewebmasterhelp.com ।
প্রশ্ন-৯: যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন বা ওয়েব ডিজাইন বা উপরের ৪নং প্রশ্নের কিছুই জানে না তাদের জন্য অন্য কি উপায় আছে আয় করার?
উত্তরঃ অবশ্যই আছে! দেখুন কাজের কোন শেষ নাই এবং আমি লিখেও শেষ করতে পারবো না। তাই ফ্রীলান্সার.কম এর প্রোজেক্ট লিঙ্কটি ভিজিট করে দেখুন আপনার পছন্দের কাজ কোনটি হতে পারে।
প্রশ্ন-১০: কাজ করার পর পেমেন্টে আনবো কিভাবে?
উত্তরঃ প্রথমতঃ আপনি যে
ফ্রীলান্সিং সাইটের মাধ্যমে আয় করবেন আপনার বায়ার আপনাকে সেই সাইটেই পে
করবে। অথবা অন্যকোন পেমেন্ট ট্রান্সিকশন সাইটে। তবে, বাহিরের বায়ারের সাথে
কাজ করলে অবশ্যই ফ্রীলান্সিং সাইটের মাধ্যমে কাজ নেয়া এবং পেমেন্ট নেয়াও
উচিত। এত আপনার বায়ার কাজের পর আপনাকে পেমেন্ট করতে অস্বীকৃতি জানালে আপনি
সেই সাইটে অভিযোগ করতে পারবেন। এবং সম্ভব হলে ডিসপিউট দেয টাকাও নিতে
পারবেন।
ফ্রীলান্স সাইটে পেমেন্ট পাওয়ার পর আপনাকে
আপনার অনলাইন একাউন্টে(মানিবুকার্স, পেপাল, ওয়েবমানি) ডলার ট্রান্সফার
করতে হবে। সেখানে থেকে লোকালী কেউ কিনতে চাইলে অথবা দেশীয় ব্যাংকের মাধ্যমে
নগদ অর্থ হাতে পেতে পারেন।
আজ এই পর্যন্ত…
সবাই ভাল থাকুন,সুস্থ থাকুন।

0 comments:
Post a Comment